নতুন বছর ২০২৬-এর শুরুতেই চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার। গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বার্ষিক দরপতনের পর শুক্রবার ডলার দুর্বল অবস্থান নিয়ে বছরের যাত্রা শুরু করেছে। এদিকে, চলতি মাসে প্রকাশিতব্য অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, যা সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে ইঙ্গিত দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির মধ্যে সুদের হারের ব্যবধান কমে আসায় ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। এর প্রভাবে ২০২৫ সালে জাপানি ইয়েন ছাড়া প্রায় সব প্রধান মুদ্রাই ডলারের বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে।
এশীয় লেনদেনের শুরুতে ইউরোর দর স্থিতিশীল ছিল ১.১৭৫২ ডলারে। গত বছর ইউরোর মূল্য বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বেড়েছে ৭.৭ শতাংশ এবং বর্তমানে এর দর ১.৩৪৭৪ ডলার—এটিও ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক উত্থান।
জাপানি ইয়েন শুক্রবার প্রতি ডলারে ১৫৬.৭৪ ইয়েনে লেনদেন হয়েছে। ২০২৫ সালে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের উত্থান ছিল ১ শতাংশেরও কম। নভেম্বর মাসে ইয়েন ১৫৭.৯০-এর কাছাকাছি নেমে গেলে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ডিসেম্বরজুড়ে জাপানি কর্তৃপক্ষের কড়া সতর্কবার্তায় ইয়েন কিছুটা শক্তিশালী হলেও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। জাপান ও চীনের বাজার বন্ধ থাকায় এশীয় লেনদেনে লেনদেনের পরিমাণ কম থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিনাকল ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ অ্যান্থনি ডয়েল বলেন, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় প্রবেশ করছে এবং বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি এখনো কম।
ডলার সূচক, যা ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান পরিমাপ করে, বর্তমানে ৯৮.২৪৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ২০২৫ সালে সূচকটি ৯.৪ শতাংশ কমেছে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন। সুদহার কমানো, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে অনিশ্চয়তা এবং ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ ডলারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন ও বেকার ভাতাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হবে। এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের অবস্থা এবং চলতি বছরে সুদের হারের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা দেবে।
এদিকে মে মাসে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও বাজারে আলোচনা চলছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত নতুন চেয়ারম্যান সুদ কমানোর পক্ষে তুলনামূলক নরম অবস্থান নিতে পারেন।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ ২০২৬ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে, যা সুদের হার পূর্বাভাসকে আরও ‘ডোভিশ’ ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলারও নতুন বছর শুরু করেছে ইতিবাচক ধারায়। অস্ট্রেলীয় ডলার ০.১ শতাংশ বেড়ে ০.৬৬৮০৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৮ শতাংশ উত্থান নিয়ে এটি ২০২০ সালের পর সেরা পারফরম্যান্স।
নিউজিল্যান্ড ডলার তিন বছরের টানা পতন কাটিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার এটি প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ০.৫৭৫৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
