আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খোস্ত প্রদেশে একটি বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। এতে অন্তত নয় শিশু ও এক নারীসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছে। আফগান গণমাধ্যমের বরাতে এমন খবর জানিয়েছে আল–জাজিরা।
বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি টালমাটাল অবস্থায় টিকে আছে। এমন সময়ে এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা উসকে দিতে পারে। আর ইতোমধ্যে আলোচনার অচলাবস্থার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে।
আজ মঙ্গলবার তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, খোস্ত প্রদেশের গুরবুজ জেলায় স্থানীয় সময় মধ্যরাতে হামলাটি চালানো হয়। মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি আগ্রাসী বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দা ক্বাজি মিরের ছেলে ওলিয়াত খানের বাড়িতে বোমা ফেলেছে। ফলে নয় শিশু (পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে) এবং এক নারী শহিদ হয়েছেন। তার বাড়িটিও ধ্বংস হয়ে গেছে।’
মুজাহিদ আরও বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুনার এবং পূর্বাঞ্চলের পাকতিকা প্রদেশেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত চার বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। তবে এতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের পেশোয়ারে দেশটির আধা-সামরিক ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি বাহিনীর সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলার একদিন পর আফগানিস্তানে এই হামলা চালাল ইসলামাবাদ। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা পাকিস্তান তালেবানের একটি গোষ্ঠী জামাতুল আহরার পেশোয়ারে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি জানিয়েছে, হামলাকারীরা আফগান নাগরিক ছিলেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ওই হামলার জন্য ‘বিদেশ-সমর্থিত ফিতনা আল-খাওয়ারিজকে’ দায়ী করেছেন। ইসলামাবাদ এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে টিটিপি যোদ্ধাদের বোঝায়, যাদের তারা আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত বলে অভিযোগ অভিযুক্ত করেছে একাধিকবার।
চলতি মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আরেক আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। ওই হামলার দায়ও পাকিস্তান তালেবানের এক গোষ্ঠী নিয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, সেই হামলার পেছনে থাকা সেলটি ছিল ‘আফগানিস্তানে থাকা উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় পরিচালিত।’
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ক্রমাগত বৈরী হয়ে ওঠে। গত অক্টোবরে সীমান্তে সংঘর্ষে দুই দেশের অন্তত ৭০ জন নিহত হওয়ার পর সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। নিরাপত্তা ইস্যু, বিশেষ করে পাকিস্তানের টিটিপি দমনের দাবি আলোচনার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তান অভিযোগ তোলেন, তালেবান টিটিপিসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা বহু বছর ধরে পাকিস্তানের ভেতরে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে আসছে। আফগানিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তান আফগান বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে নানা ভাবে প্রশ্রয় দেয় এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে না।
