মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউরোপীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তেহরানে রাষ্ট্রদূতদের তলব, কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত ইরানের

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৬

ইউরোপীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তেহরানে রাষ্ট্রদূতদের তলব, কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত ইরানের

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় তেহরানে অবস্থানরত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে দেশটি।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এবিসি নিউজ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা ইইউর একটি ‘ভুল ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত’। তিনি একে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাঘাই জানান, রাষ্ট্রদূতদের ডেকে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইরানের কড়া অবস্থান জানানো হয়েছে এবং তেহরান পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—এ বিষয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইরান ইউরোপীয় বাহিনীগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে ইইউ ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এমন উত্তেজনার মধ্যেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। চলতি সপ্তাহে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোববার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী এবং এ সপ্তাহেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্ক, মিশর ও কাতার যৌথভাবে আঙ্কারায় প্রস্তাবিত বৈঠকটি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আহ্বান এবং একই সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি—এই দ্বৈত অবস্থান কোনো প্রতারণামূলক কৌশল নয়।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি এই সামরিক সমাবেশকে ‘বিশাল নৌবহর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক অভিযান শুরু করলে তা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: এবিসি নিউজ