রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এক শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ইরান

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬

এক শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ইরান

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি পুনঃস্থাপনের জন্য আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে দেশটি একটি শর্ত আরোপ করেছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাকত রাভাঞ্চি জানিয়েছেন, এ আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনকে আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাতে হবে। রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

তেহরানে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাকত রাভাঞ্চি বলেন, “চুক্তি করতে চাইলে আমেরিকাকেই প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিই আগ্রহী। তারা যদি আন্তরিক হয়, আমরা সমঝোতার পথে এগোতে পারব।”

মার্কিন কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, আলোচনা দেরি হওয়ার মূল কারণ ইরান। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি চান, তবে তা করা ইরানের সঙ্গে সহজ নয়।

সম্প্রতি ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তাকত রাভাঞ্চি জানান, আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আলোচনাকে মোটামুটি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য সময় প্রয়োজন।

ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এটি তাদের সমঝোতার ইচ্ছার প্রমাণ বলে দাবি করছেন। বর্তমানে ইরানের কাছে ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। তবে এটি দেশের ভেতরে থাকবে নাকি ২০১৫ সালের চুক্তির মতো বাইরে পাঠানো হবে তা এখনই নির্ধারণ করা হয়নি।

২০১৫ সালের বহুপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে সরে দাঁড়ায়। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া ১১ হাজার কেজি নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়াম গ্রহণ করেছিল। মস্কো আবারও এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে।

তাকত রাভাঞ্চি বলেন, আলোচনার সীমা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ দাবি এখন আর আলোচনার টেবিলে নেই। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা কোনো ধরনের সমৃদ্ধকরণই চান না।

বিবিসি জানিয়েছে, ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাকত রাভাঞ্চি বলেন, “যখন আমাদের ওপর হামলা হয়েছে, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রই আত্মরক্ষায় সহায়তা করেছে। তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ত্যাগ করা সম্ভব নয়।”

ইরান আরও অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল আলোচনাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হতে পারে। জবাবে ইরান সতর্ক করেছে, কোনো আগ্রাসন হলে তা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিরোধমূলক জবাব দেওয়া হবে।

তাকত রাভাঞ্চি শেষমেষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, কূটনৈতিক পথে সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, তবে অপর পক্ষকেও আন্তরিকতা দেখাতে হবে।”