সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ছেলের বিয়েতে যাচ্ছেন না ট্রাম্প: ইরান যুদ্ধের কারণে হোয়াইট হাউসেই থাকছেন প্রেসিডেন্ট

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

রবিবার, মে ২৪, ২০২৬

ছেলের বিয়েতে যাচ্ছেন না ট্রাম্প: ইরান যুদ্ধের কারণে হোয়াইট হাউসেই থাকছেন প্রেসিডেন্ট

ছেলের বিয়ে, কিন্তু বাবা থাকছেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে তিনি তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও বেটিনা অ্যান্ডারসনের বিয়েতে যোগ দেবেন না। বাহামাসে আয়োজিত এই ঘরোয়া বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমি মন থেকে চেয়েছিলাম আমার ছেলে ডন জুনিয়র এবং ট্রাম্প পরিবারের নতুন সদস্য বেটিনার সঙ্গে থাকতে। কিন্তু সরকারি দায়িত্ব এবং আমেরিকার প্রতি আমার ভালোবাসা তা হতে দিচ্ছে না।” তিনি আরও লিখেছেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসে থাকাটা আমার কাছে জরুরি মনে হচ্ছে।” শেষে লিখেছেন, “ডন ও বেটিনাকে অভিনন্দন।”

বিয়ের আগের দিন ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে পুরো বিষয়টা আরও খোলামেলাভাবে বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “সে চায় আমি আসি, কিন্তু এটা ছোট্ট একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান। আমি চেষ্টা করব যেতে।” তবে এরপরই ট্রাম্পের চিরপরিচিত কথাটি বেরিয়ে আসে — “এটা আমার জন্য ভালো সময় নয়। আমার ইরান নামক একটা ব্যাপার আছে — আর আরও অনেক কিছু।” বিশেষ করে মজার ছলে তিনি বলেছিলেন, “এটা এমন একটা পরিস্থিতি যেখানে আমি যেভাবেই যাই, হারব। গেলেও মিডিয়া আমাকে কটাক্ষ করবে, না গেলেও ফেক নিউজ আমাকে ছাড়বে না।” শেষে হাসিমুখে বলেছেন, “আশা করি তাদের বিয়ে সুখের হবে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র প্রেসিডেন্টের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড়। তার মা হলেন ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী ভ্যানেসা ট্রাম্প। আর ঠিক এই সময়ে ভ্যানেসা ট্রাম্প ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন যে তিনি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। ছেলের বিয়ের আনন্দের মাঝে মায়ের এই কঠিন খবর পুরো ট্রাম্প পরিবারের জন্য একটি কঠিন সপ্তাহ তৈরি করেছে। ভ্যানেসার বর্তমান সঙ্গী টাইগার উডসও তাকে পাশে থেকে সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে।

ইরান যুদ্ধই যে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ তা স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে তেলের দাম লাগামহীন, মার্কিন জনগণ ক্ষুব্ধ এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্টের সামনে সংকট মোকাবেলার বিশাল চাপ। এই পরিস্থিতিতে একটি দ্বীপে ছুটি কাটাতে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে তার জন্য ভালো দেখাত না। তাই পিতৃত্বের আবেগকে পাশে রেখে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বকেই বেছে নিলেন ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্পের সমালোচকরা এই ঘটনায় একটু কটাক্ষও করেছেন। তারা বলছেন, যে বাবা ছেলের বিয়েতে যেতে পারেন না, তিনি কি সত্যিই তার পরিবারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন? তবে ট্রাম্প সমর্থকরা বলছেন, এটাই প্রমাণ করে ট্রাম্প ব্যক্তিগত আনন্দের চেয়ে দেশের দায়িত্বকে বড় মনে করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও বেটিনা অ্যান্ডারসন অবশ্য বাহামাসের রোদ ঝলমলে আকাশের নিচে তাদের বিশেষ দিনটি উদযাপন করেছেন — বাবার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও।