আগামী ১১ এপ্রিল শনিবার নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববাঙালির বাংলা নববর্ষ বরণ উৎসব। এই উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়ার সম্মতি জানিয়েছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান–সিগাল। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রায় অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও দক্ষিণ-এশিয়ার কোন অনুষ্ঠানে এই প্রথম ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
গত ১৫ মার্চ কুইন্সের নবান্ন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফা মহড়া শেষে আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড–এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বিশ্বজিত সাহা আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানান। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে মহড়া পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপসসহ শতাধিক শিল্পী ও কলাকুশলী উপস্থিত ছিলেন।
মহিতোষ তালুকদার তাপসের পরিচালনায় ১৪ ও ১৫ মার্চ নতুন পাঁচটি গানের নিবিড় মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ মার্চ প্রথম পর্বে শিশু–কিশোর শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত মহড়ার আয়োজন করা হয়। পরবর্তী পর্বে শিশু–কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক শিল্পী মিলিয়ে প্রায় শতাধিক অংশগ্রহণকারী মহড়ায় যুক্ত হন। আয়োজকদের মতে, ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা বিশ্বজুড়ে বাঙালিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
একই সঙ্গে সপ্তাহান্তে লোকসঙ্গীতশিল্পী শাহীন হোসেনের তত্ত্বাবধানে জারি, সারি ও মারফতি গানের বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচিত ১৫ জন শিল্পী অংশ নেন। রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী কার্তিক চন্দ্র দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আরেকটি মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন ১২ জন শিল্পী। এছাড়া নৃত্যশিক্ষিকা চন্দ্রা ব্যানার্জীর কোরিওগ্রাফি ও নির্দেশনায় টাইমস স্কয়ারের অনুষ্ঠানের জন্য পঞ্চাশেরও বেশি নৃত্যশিল্পী গত সপ্তাহ থেকে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, ১১ এপ্রিল টাইমস স্কয়ার এবং ১২ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গত চার বছর ধরে এই উৎসবকে ঘিরে যে সাংস্কৃতিক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, তা মহড়াগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোসাইন কবির।
এই আয়োজনকে বিশ্ববাঙালির সাংস্কৃতিক ঐক্য, পরিচয় ও উৎসবধর্মী ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
