প্রবল তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈরী আবহাওয়ার কারণে একদিনেই পাঁচ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফ্লাইটএওয়ার–এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৩২৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়।
এর আগে ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, ডেলাওয়ার, নিউ জার্সি ও রোড আইল্যান্ডসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। তুষারপাত, ঝোড়ো হাওয়া ও উপকূলীয় প্লাবনের আশঙ্কায় আকাশপথে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উপকূলীয় মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চল থেকে মেইন পর্যন্ত ভারী তুষারপাত ও শক্তিশালী বাতাস বয়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৭ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। মোট তুষারের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৫ থেকে ৬১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এতে সড়ক যোগাযোগ প্রায় অচল হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ভারী ও ভেজা তুষারের চাপ এবং ঝোড়ো বাতাসের কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে আগেভাগেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড এবং বস্টনসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় তুষারঝড় সতর্কতা বলবৎ রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি জানিয়েছেন, রোববার রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের সড়ক, মহাসড়ক ও সেতু বন্ধ রাখা হবে। জরুরি সেবা ও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রায় ৮০ লাখ জনসংখ্যার এই শহরে গত এক দশকে এমন তীব্র শীতকালীন ঝড় দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
