দুই বছরের বেশি সময় পর সৌদি আরব সফরে গেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। মঙ্গলবার তিনি রিয়াদে পৌঁছান। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক ও জ্বালানি খাতভিত্তিক চুক্তি সই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মধ্য দিয়ে আঙ্কারা ও রিয়াদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, সফরকালে তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন কারিগরি দিক চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় আশা করছে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও পেট্রোকেমিকেল খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি, সৌদি আরবের বড় অঙ্কের বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আঙ্কারা ও রিয়াদ।
২০১১ সালের আরব বসন্তের পর সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে নীতিগত দূরত্ব তৈরি হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২০১৮ সালে, যখন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে নিহত হন। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে তুরস্ক। এর জেরে দুই দেশের সম্পর্ক চরম অবনতি ঘটে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা অনেকটাই কমেছে। গাজা ইস্যুতে দুই দেশই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি ও পরবর্তী নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও উভয় দেশ একসঙ্গে অবস্থান নেয়।
বর্তমান সফরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে এরদোয়ানের। এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রিয়াদ সফর করেছিলেন তিনি। সৌদি সফর শেষে বুধবারই কায়রোর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের।
এদিকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র। এএফপিকে দেওয়া এক বক্তব্যে এক আরব কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে এরদোয়ানের সৌদি সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এবং মতভেদ দূর করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে দেখা যেতে পারে।
