ইরানের দফায় দফায় হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অস্থির। দিনে দিনে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে তেহরান। এর বেশ ভালো প্রভাব পড়েছে দুবাইয়ে। অঞ্চলটিতে ইরানের অগ্রাধিকারে থাকার মূল কারণ শক্তিশালী মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান। সেসব ঘাঁটি লক্ষ্য করেই ব্যাপক হামলা হচ্ছে। আতঙ্ক এতই বেড়েছে যে সেখানে বসবাসরত ধনীরা দুবাই ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হামলায় দুবাই বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির বেশ কিছু বিলাসবহুল হোটেল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, সোমবারও তারা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার জেরে তেহরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আমিরাত। তেমনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভয়-আতঙ্ক মাত্রা ছাড়িয়েছে, বিশেষ করে ধনীদের মধ্যে।
ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যনগরী দুবাই ছাড়তে এখন প্রাইভেট জেটই ধনীদের একমাত্র ভরসা। ফলে বিকল্প পথে দেশ ছাড়ার হুড়োহুড়িতে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া আকাশ ছুঁয়েছে। ধনকুবের, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও লাখো পর্যটকের প্রমোদকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঝলমলে দুবাই এখন চরম উৎকণ্ঠার শহর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে শুধু দুবাই-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান। এ তালিকায় আছে সৌদি আরবও। বাদ যায়নি কাতার, কুয়েত, বাহরাইনও।
এ পরিস্থিতিতে দুবাই থেকে অনেকে পার্শ্ববর্তী ওমানের দিকে ছুটছেন। গাড়ি চালিয়ে ওমান যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। সেখানে এ পর্যন্ত যুদ্ধের প্রভাব তেমনটা পড়েনি। ওমানের মাসকাট বিমানবন্দর এখনো চালু রয়েছে। তবে সেখানে ফ্লাইট ছাড়তে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবু দীর্ঘ অপেক্ষা করে প্রাইভেট বিমানে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছেন ধনীরা।
