রুশ বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির মৃত্যুকে ঘিরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, তার মৃত্যুর সঙ্গে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ সত্য হলে তা আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় হঠাৎ মারা যান নাভালনি। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন। তবে নাভালনির স্ত্রী জুলিয়া নাভালনি শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন, তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের পাঁচটি পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণে নাভালনির শরীরে বিরল ধরনের বিষক্রিয়ার আলামত পাওয়া গেছে। দাবি করা হচ্ছে, ইকুয়েডরের এক প্রজাতির বিষাক্ত ব্যাঙের বিষ থেকে তৈরি টক্সিনের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। ইভেট কুপার বলেন, এ ধরনের বিষ ব্যবহার করার সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ কেবল রুশ সরকারেরই ছিল বলে তাদের ধারণা।
জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে কুপার ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার হুমকির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কয়েকজন ইউরোপীয় মন্ত্রী বিষয়টি রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার কাছে উত্থাপন করেছেন। এটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটেও রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
অন্যদিকে লন্ডনে রাশিয়ার দূতাবাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘পশ্চিমা কল্পকাহিনি’ বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, উপস্থাপিত তথাকথিত প্রমাণের কোনো ভিত্তি নেই।
এদিকে যুক্তরাজ্যের বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা নানা উপায়ে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং রাশিয়ার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে লক্ষ্য করে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
