শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন: সরকার গঠনের পথে বিএনপি

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন: সরকার গঠনের পথে বিএনপি

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন ও পরিবর্তনের পর অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ভোটগ্রহণ ও প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবারের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী, বিএনপি সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং ইতোমধ্যে বহু আসনে তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মোট নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১৫১টি আসন। প্রাথমিক তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী সম্ভাব্য:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): আনুমানিক ২০০–২২০টি আসন
জামায়াতে ইসলামী–নেতৃত্বাধীন জোট:  আনুমানিক ৪৫–৫৫টি আসন
অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী: আনুমানিক ২০–৩০টি আসন
( সংবাদটি বাংলাদেশ সময় ভোর রাত ৩টায় করা। আসন সংখ্যা হেরফের হওয়াই প্রত্যাশিত)  

এই হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এবারের নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে কার্যত অনুপস্থিত ছিল। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী–নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে।

ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল, এবং দেশের তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে বিশেষভাবে লক্ষণীয় বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে।

সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে নতুন সরকার গঠন করবে এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভবিষ্যৎ সরকার কাঠামোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

ফোনালাপে মোঃ হাসান মাহবুব, মিডিয়া ও প্রচার আহ্বায়ক, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (বগুড়া–৬) এবং আইটি বিশেষজ্ঞ, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (ঢাকা–১৭) নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ধারার জন্য একটি ইতিবাচক দিক। ভোটার উপস্থিতি ও জনগণের সম্পৃক্ততা ছিল আশাব্যঞ্জক, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং এটি একটি গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের সূচনা। দীর্ঘ সময় পর মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে।”

মোঃ হাসান মাহবুবের মতে, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, বরং এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আরও শক্তিশালী হবে।

জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লায়লা আরজ্জুমান বানু আজকের নির্বাচন প্রসঙ্গে অত্যন্ত আশাবাদী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজকের ইলেকশন ঈদের দিনের মতো মনে হচ্ছে। সবাই সুন্দর কাপড় পরে, উৎসবের আমেজে ভোট দিতে এসেছে। দীর্ঘদিন পর মানুষকে এভাবে হাসিমুখে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।”

তিনি আরও বলেন, “১৭ বছর পর মনে হচ্ছে বাংলাদেশ প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মানুষের মধ্যে ভয় নেই, দুশ্চিন্তা নেই—আবার মানুষ নিজের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। এই নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন সূচনা।”

ভবিষ্যৎ ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বিপুল ভোটে রংপুর–৬ আসন থেকে বিজয়ী হবেন। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন তার পক্ষেই রয়েছে।”

তার বক্তব্যে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আবেগ, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট, এবং সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হলে সরকার গঠনের চিত্র আরও পরিষ্কার হবে, তবে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি–নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।