বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম কয়েক মাস ধরে দ্রুত কমছে। চলতি সপ্তাহে এটি এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে প্রায় ৬৩ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে যেখানে দাম ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি, এখন তা বছরের শুরু থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। খবর আল জাজিরার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের অস্থিরতা, স্বর্ণ ও রুপার দামের ওঠানামা এবং বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়া বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) থেকে গত কয়েক মাসে বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দেয়।
ক্রিপ্টো বাজার অনেকটাই ‘হাইপ’ বা অতিরিক্ত আগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে সেই আগ্রহ কমে যাওয়ায় লেনদেনের পরিমাণও কমেছে, ফলে বাজারে তারল্য কমে গিয়ে দাম দ্রুত ওঠানামা করছে। এ ধরনের দীর্ঘ সময়ের মন্দাকে ‘ক্রিপ্টো উইন্টার’ বলা হয়।
স্বর্ণ ও রুপার অস্থিরতার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ডলারের শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বিনিয়োগকারীকে বিক্রি বাড়াতে বাধ্য করেছে। বিটকয়েনের পাশাপাশি দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথারের দামও এ সপ্তাহে প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রিপ্টো-বান্ধব নীতির কথা বলেছেন এবং জাতীয় ক্রিপ্টো রিজার্ভ তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তবুও, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে একাধিকবার ‘ক্রিপ্টো উইন্টার’ দেখা গেছে এবং সাধারণত এ ধরনের মন্দা প্রায় এক বছর স্থায়ী হয়। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বর্তমান পতন সাময়িক এবং ভবিষ্যতে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
