ইরান প্রতিটি মার্কিন নাগরিক ও বিবেকবান কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের বিরোধিতা করেন এবং এই যুদ্ধকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করেন।
গত মাসের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতকে ইরান একটি অবৈধ ও উস্কানিমূলক আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কাউন্টারটেররিজমের (এনসিসি) ডিরেক্টর জোসেফ কেন্টের পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে এই যুদ্ধের প্রতিবাদে কেন্ট তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রের বিষয়ে কেন্ট জানিয়েছিলেন যে, একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেন না। তার এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাঘাই বলেন, এই যুদ্ধ আমেরিকার সাধারণ মানুষের যুদ্ধ নয় এবং একজন বিবেকবান মার্কিন নাগরিক বা কর্মকর্তার জন্য এই অবৈধ যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করাটাই হলো সর্বনিম্ন নৈতিক দায়িত্ব।
জোসেফ কেন্ট তার পোস্টে আরও দাবি করেছিলেন যে ইরান আমেরিকার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। বরং ইসরাইল এবং সে দেশে থাকা শক্তিশালী ইসরাইলি লবিংয়ের চাপের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। কেন্টের এই পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে এবং তার কট্টর সমর্থকদের মধ্যে যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে গভীর বিভাজন ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হামলার পেছনে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন এবং ইসরাইলি চাপের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
চলতি মাসের শুরুতে হাউজ স্পিকার মাইক জনসন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে হোয়াইট হাউস বিশ্বাস করে ইসরাইল একাই এই পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর ছিল, যা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের জন্য একটি কঠিন সিদ্ধান্তের পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী তেহরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ সামরিক হামলা চালানোর মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা করে। এর পর থেকেই ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরাইলি অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
