বুধবার, ২৬ আগষ্ট ২০২৬

ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের জন্য নতুন দ্বীপ গড়ছে সিঙ্গাপুর

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের জন্য নতুন দ্বীপ গড়ছে সিঙ্গাপুর

শিল্প, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে নতুন একটি দ্বীপ তৈরির পরিকল্পনা করেছে সিঙ্গাপুর। সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধার করে কয়েকটি দ্বীপকে একীভূত করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে নতুন এই ভূখণ্ড গড়ে তোলা হবে। আগামী কয়েক দশক ধরে ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি ন্যাশনাল ডে র‌্যালিতে এ পরিকল্পনার কথা জানান সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং। প্রস্তাবিত দ্বীপটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র জুরং দ্বীপের দক্ষিণে গড়ে তোলা হবে। পালাউ সেমাকাউ, পালাউ বুকোম ও পালাউ সুদংসহ কয়েকটি দ্বীপকে একত্র করে নতুন এই দ্বীপ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দ্বীপে ভবিষ্যৎ শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বড় পরিসরের জায়গা পাওয়া যাবে। সেখানে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, উন্নত উৎপাদনশিল্প এবং বিভিন্ন ধরনের কম-কার্বন জ্বালানি ব্যবস্থার মতো খাত গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে জুরং দ্বীপের শিল্প কার্যক্রমও আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত দ্বীপে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে সিঙ্গাপুর এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ ক্ষেত্রে আরও গবেষণা ও বিস্তারিত সমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পানি সহজে পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডে অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহার না করেই বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। ভূমি পুনরুদ্ধার, পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অন্যান্য ইউটিলিটি অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল ব্যয় হতে পারে। এর পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন দ্বীপটি সিঙ্গাপুরের ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভূমির মজুত হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে কোন শিল্প সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে এমন বড় ও জটিল শিল্প অবকাঠামোর জন্য আগেভাগেই জায়গা নিশ্চিত করতে চাইছে দেশটি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, জুরং দ্বীপের পাশে আরেকটি বড় শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র গড়ে উঠলে সিঙ্গাপুরের জ্বালানি ব্যবস্থায় বিকল্প ও স্থিতিশীলতা বাড়বে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস