মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর নতুন ধরনের অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমনটাই জানিয়েছে বার্তা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে আগের চেয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। তবে এই অভিযানের সময়সূচি, পরিধি এবং ট্রাম্প চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কারাকাসের সম্পর্কও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য হোয়াইট হাউসকে নির্দেশ দিয়েছে, তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিষয়ে “কিছুই বাদ দেওয়া হচ্ছে না” এবং প্রয়োজনে ট্রাম্প দেশের সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছে যে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবৈধ মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা মাদকের জন্য তার সরকার আংশিকভাবে দায়ী। মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মাদুরো, যিনি ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন, অভিযোগ করেছেন যে ট্রাম্প তাকে অপসারণ করতে চান, এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ ও সেনাবাহিনী যেকোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করবে।
যুক্তরাষ্ট্র আগামীকাল ‘কার্টেল দে লস সোলেস’-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই তালিকাভুক্তি মাদুরোর সম্পদ ও ভেনেজুয়েলার অবকাঠামোতে হামলার নতুন বিকল্প খুলে দেবে। তবে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন অনেক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোরড স্ট্রাইক গ্রুপসহ ১৬ নভেম্বর ক্যারিবিয়ানে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে সেখানে অন্তত সাতটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক সাবমেরিন এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।
