বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ: আরও ছয় জাহাজে নিষেধাজ্ঞা

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ: আরও ছয় জাহাজে নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও ছয়টি জাহাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দের পর। জাহাজগুলো ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে, এ ঘটনা দেশটির তেল রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল জাহাজ নয়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বেশ কয়েকজন আত্মীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, জব্দ করা জাহাজ স্কিপার অবৈধভাবে তেল পরিবহনে লিপ্ত ছিল। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্দরে নেওয়া হবে। অন্যদিকে কারাকাস এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা বলে আখ্যা দিয়েছে।

এই ঘটনা মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক পরিবহনের অভিযোগে একাধিক নৌকা ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এবং অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।

ভেনেজুয়েলা অভিযোগ করছে, ওয়াশিংটন তাদের তেলসম্পদ দখল করতে চাচ্ছে। মাদুরো বুধবার ঘোষণা করেছেন, তার দেশ কখনো তেলের উপনিবেশ হতে দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা লেভিট জানান, দেশটি মাদক চোরাচালান রোধ ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, স্কিপারে থাকা তেলও আইনি প্রক্রিয়া শেষে জব্দ করা হবে। তবে আরও জাহাজ আটকানোর পরিকল্পনা আছে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।

মাদুরোর স্ত্রী ও তার তিন ভাগ্নে এবং কয়েকটি ব্যবসার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ মাদুরোর স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে সহায়ক হবে।

হোয়াইট হাউস বুধবার স্কিপার জাহাজে অভিযান চালানোর নাটকীয় ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হেলিকপ্টার থেকে কমান্ডোরা দড়ি বেয়ে নেমে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জাহাজ জব্দের তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে খুনি, চোর ও জলদস্যু হিসেবে অভিহিত করেছেন।

স্কিপার জাহাজটি ২০২২ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। তখন জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, এটি হিজবুল্লাহ ও আইআরজিসি-কুদস ফোর্সের তেল চোরাচালানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করেছে।

অভিযানের আগে ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছিল। এতে হাজারো সেনা মোতায়েন করা হয় এবং বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড ভেনেজুয়েলার খুব কাছাকাছি অবস্থান করেছিল।