ইরানকে পরমাণু বিষয়ে সমঝোতায় আনার জন্য চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, কূটনৈতিক পথ খোলা থাকলেও প্রয়োজনে সামরিক প্রস্তুতিও রাখা হবে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, আগামী মার্চের মধ্যে তেহরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে। কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। ট্রাম্পের দাবি, প্রয়োজনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
পেন্টাগনের নির্দেশে প্রস্তুত করা নতুন রণতরীটি পারস্য উপসাগরে আগে থেকে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে যুক্ত হবে। যুক্ত হতে যাওয়া রণতরীটি হলো ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড, যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম বিমানবাহী জাহাজ।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশলের অংশ। আরব অঞ্চলের কয়েকটি দেশ আশঙ্কা করছে, পাল্টাপাল্টি শক্তি প্রদর্শন বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
তবে তেহরান জানিয়েছে, চাপের মুখে তারা অবস্থান বদলাবে না। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাহাড়ঘেরা একটি পারমাণবিক স্থাপনায় সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিমান হামলা ঠেকাতে টানেলের মুখে কংক্রিটের আবরণ ও অতিরিক্ত মাটির স্তর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতের পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আরও সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তেজনা শুধু সামরিক প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ছবি প্রচার করে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের নাগরিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির পক্ষে মত দেন। তবে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, তাঁর অগ্রাধিকার কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। তবে পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি এখনো জানা যায়নি। তেহরানও সতর্ক করে জানিয়েছে, চলমান সংলাপ যেন কোনো পক্ষের রাজনৈতিক পদক্ষেপে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
