যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী শরণার্থীদের জন্য নতুন অনিশ্চয়তার বার্তা দিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। এক স্মারকে জানানো হয়েছে—আমেরিকায় প্রবেশের এক বছর পূর্ণ হলে তাদের স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদা (গ্রিন কার্ড) নিতে হবে অথবা কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হয়ে পুনঃযাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। তা না হলে তাঁদের আটক করা হতে পারে।
১৮ ফেব্রুয়ারির ওই নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, এক বছর পার হওয়ার পর যারা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পরিদর্শন সম্পন্ন করেননি, তাঁদের “আটক ও পরীক্ষা” করা যেতে পারে। এমনকি গ্রিন কার্ডের আবেদন বিচারাধীন থাকলেও অভিবাসন হেফাজতে রাখা হতে পারে।
প্রশাসনের যুক্তি—এতে জালিয়াতি রোধ, জাতীয় নিরাপত্তা যাচাই এবং অপরাধমূলক অতীত পরীক্ষা জোরদার হবে। তবে শরণার্থী পুনর্বাসন সংস্থাগুলো বলছে, দীর্ঘ যাচাই শেষে আশ্রয় পাওয়া মানুষদের জন্য এটি এক ধরনের ভীতি সৃষ্টির নীতি। তাঁদের মতে, আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের পেছনে প্রায়ই প্রশাসনিক জটিলতা ও দপ্তরীয় দীর্ঘসূত্রতা দায়ী।
মিনেসোটায় গ্রিন কার্ড না পাওয়া কয়েকজন শরণার্থীকে আটক করার ঘটনায় বিষয়টি ইতিমধ্যে ফেডারেল আদালতে গড়িয়েছে। এক বিচারক সাময়িকভাবে আটক কার্যক্রম স্থগিত করে গ্রেপ্তারদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩৮ হাজার শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসিত হয়েছেন। কিন্তু চলতি বছরে শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নামিয়ে আনা হয়েছে ৭,৫০০-তে—যা ইতিহাসে সর্বনিম্ন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতির ফলে হাজারো শরণার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে আছে আশ্রয়প্রার্থী শরণার্থী পরিবারগুলো।
