যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন ও কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) ঘিরে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ঘোষিত নতুন প্রস্তাবিত বিধি অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর ও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) প্রকাশিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আশ্রয় আবেদন করার পর কমপক্ষে ৩৬৫ দিন পূর্ণ না হলে আবেদনকারী আর ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
বর্তমানে এই সময়সীমা প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ দিন। অর্থাৎ নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারীদের অন্তত এক বছর অপেক্ষা করতে হবে কাজের অনুমতির জন্য।
আরও বলা হয়েছে, যদি ইউএসসিআইএস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আশ্রয় আবেদনের গড় নিষ্পত্তি সময় ১৮০ দিনের নিচে নামাতে না পারে, তাহলে আশ্রয়ভিত্তিক নতুন ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু বা নবায়ন কার্যত স্থগিত থাকতে পারে—যা বাস্তবে বহু আবেদনকারীকে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মুখে ফেলবে।
প্রস্তাবিত নীতিতে আরও উল্লেখ আছে, যারা অনিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আশ্রয়ের ইচ্ছা কর্তৃপক্ষকে জানাননি, তারা সাধারণ নিয়মে কাজের অনুমতির অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের অবস্থান হলো ওয়ার্ক পারমিট কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়; এটি নির্বাহী বিবেচনায় প্রদানযোগ্য একটি সুবিধা। এর ফলে ইস্যু বা বাতিল—উভয় ক্ষেত্রেই সরকারের ক্ষমতা বাড়বে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে অন্তত ৯৬ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত হতে পারেন এবং বছরে প্রায় দুই লাখ আবেদনকারী নতুন বিধির আওতায় পড়তে পারেন।
ইউএসসিআইএস ইতোমধ্যে ভেটিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে। পূর্বে কিছু ক্যাটেগরিতে স্বয়ংক্রিয় ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের সুবিধা থাকলেও এখন প্রায় সব ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি—ভিত্তিহীন আশ্রয় আবেদন কমানো, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সিস্টেমের ওপর চাপ কমানোই এ নীতির উদ্দেশ্য। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, এতে বৈধভাবে আশ্রয়প্রার্থী হয়ে থাকা হাজারো মানুষ বছরের পর বছর কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, যা তাদের জীবনযাপনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।
প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি; ৬০ দিনের জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত বিধি জারি হতে পারে। তবে স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় ও কাজের অনুমতির প্রশ্নে নতুন এক কঠোর বাস্তবতা সামনে আসছে।
