যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শীতকালীন তুষারঝড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এই ঝড়ে ভারী তুষারপাত, বরফ জমা ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, টেক্সাসে স্লেজিং দুর্ঘটনায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। অস্টিন এলাকায় এক ব্যক্তি হাইপোথার্মিয়ায় প্রাণ হারান। এ ছাড়া লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, আর্কানসাস, নর্থ ক্যারোলাইনা, টেনেসি, ম্যাসাচুসেটস ও কানসাস অঙ্গরাজ্যেও ঝড়জনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে খোলা জায়গা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে শহরের মেয়র জোহরান মামদানি জানান, প্রবল শীত ও আশ্রয়ের অভাবে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার সকাল পর্যন্ত টেক্সাস থেকে মেইন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটির বেশি মানুষ তীব্র শীতের সতর্কতার আওতায় ছিল। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের বড় অংশে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে গেছে এবং কিছু এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ ঠান্ডা অব্যাহত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতি ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তুষারঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহেও ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল। সেখানে বরফের ভারে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে।
পরিবহন খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। রোববার ১০ হাজার ৫০০টির বেশি এবং সোমবার প্রায় ৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বহু সরকারি দপ্তর ও জাদুঘর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, কোথাও কোথাও অনলাইনে পাঠদান চলছে।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে আরও একটি শক্তিশালী শীতকালীন ঝড় আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে নাগরিকদের নিয়মিত আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
