বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: যুদ্ধ নাকি সমঝোতা?

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: যুদ্ধ নাকি সমঝোতা?


ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এ অঞ্চলেই এটাই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ। ভূমধ্যসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া আকাশ নজরদারির জন্য একাধিক ই-৩ সেন্ট্রি সতর্কীকরণ বিমান পাঠানো হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কি সরাসরি যুদ্ধে নামছে, নাকি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে চাপ পড়তে পারে।

ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ১০-১৫ দিনের মধ্যে ‘অর্থবহ চুক্তি’ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। এমন বক্তব্য প্রশাসনকে এক ধরনের চাপের মধ্যে ফেলেছে।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সংঘাত নিয়ে সতর্ক। দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনার সমস্যায় দুর্বল। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি তীব্র। এই অবস্থায় যুদ্ধ শুরু হলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

তবে ইরানের নেতৃত্ব প্রকাশ্যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। তারা বলছে, পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আলোচনায় ‘শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ বন্ধের কোনো শর্ত তোলা হয়নি। মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখা।

এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘সীমিত’ মাত্রায় প্রতীকী সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে, যদি তা থেকে বোমা তৈরির পথ বন্ধ থাকে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সমঝোতা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পথে যেতে পারে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করা হবে। তবে এমন হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

ফলে দুপক্ষই বড় ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এজন্য অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত হলেও একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর