রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের ১,৪৬৩তম দিনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কূটনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বার্তা সংস্থা রাইটার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাশিয়ায় ড্রোন হামলা
রাশিয়ার স্মোলেনস্ক অঞ্চলের একটি সার কারখানায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, হামলায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
স্মোলেনস্ক অঞ্চলের গভর্নর ভাসিলি আনোখিন বলেন, পিএও দোরোগোবুঝ কারখানাটি একটি বেসামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের মারকোভো গ্রামে পৃথক ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর আলেকজান্ডার খিনশতাইন।
জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসনে হামলা
ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রুশ বাহিনীর হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ। তাঁর দাবি, ৩২টি বসতিতে মোট ৬৪৩টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে আরও দুজন আহত হন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর প্রোকুদিন জানান, সেখানে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলায় তিনটি বহুতল আবাসিক ভবন, একটি পানির টাওয়ার, একটি যোগাযোগ টাওয়ার এবং একটি গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রত্যাশা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মার্চে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া–ইউক্রেন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নেতাদের পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জটিল বিষয়গুলোর সমাধানে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ প্রয়োজন।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। কিয়েভ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে রাশিয়ার এমন অভিযোগ শান্তি আলোচনায় চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানিয়েছেন, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে প্রলুব্ধ হওয়া ১১ জন দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংকট সমাধানে ধারাবাহিক সংলাপ ও আলোচনার বিকল্প নেই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় নিতে হবে।
জ্বালানি ইস্যু
পশ্চিম ইউক্রেন দিয়ে যাওয়া দ্রুঝবা তেল পাইপলাইনের মেরামত দ্রুত সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। জানুয়ারিতে রুশ হামলায় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল পূর্ব ইউরোপে সরবরাহ করা হয়। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া উদ্বেগ জানিয়েছে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। পাইপলাইনে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনকে সহায়তা সংক্রান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পদক্ষেপে আপত্তি জানানোর অবস্থানে রয়েছেন তিনি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা
যুক্তরাজ্যে ইউক্রেনের প্রথম ড্রোন উৎপাদন কারখানা চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সে দেশে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরি জালুঝনি।
এদিকে জার্মানি তাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আক্রমণক্ষম ড্রোন কেনার বরাদ্দ ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো থেকে কমিয়ে ২ বিলিয়ন ইউরো করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
