যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কৌশলগত অস্ত্রভান্ডারের ওপর আর কোনো বাধ্যতামূলক সীমা রইল না। এতে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও সিএনএন।
নিউ স্টার্ট চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে স্থল ও সাবমেরিনভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমারু বিমান মোতায়েনের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। চুক্তিটির অবসান বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর সংকেত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হলো, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর কোনো বাধ্যতামূলক সীমা নেই। অথচ এই দুই দেশই বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সিংহভাগের মালিক।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অর্জিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবসান কোনোভাবেই ভালো সময়ে ঘটেনি। কারণ বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দ্রুত নতুন একটি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতে পৌঁছানো জরুরি।
জাতিসংঘ মহাসচিব উভয় দেশের প্রতি দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন একটি নতুন চুক্তি প্রয়োজন, যা যাচাইযোগ্য সীমা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে, ঝুঁকি কমাবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এদিকে বিশ্বকে নিরাপদ রাখতে নিউ স্টার্ট চুক্তি নবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ লিও। গত বুধবার ভ্যাটিকানে সাপ্তাহিক সাধারণ সমাবেশে তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি শেষ হতে দেওয়া উচিত হয়নি।
পোপ লিও বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভয় ও অবিশ্বাসের রাজনীতি নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা ও যৌথ নৈতিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। মানবতার কল্যাণে বিশ্বনেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
