বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে নিউইয়র্ক প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর এসোসিয়েটস আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে এসব উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশী হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্রের একক হিন্দু ফেডারেশন, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন ও অ্যামনেস্টি ফ্রিডম সহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সংগঠনগুলোর মতে, গণতন্ত্র কেবল ভোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে আইনের শাসন, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং নাগরিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা। এসব মৌলিক উপাদান দুর্বল হয়ে পড়লে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ঘিরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২,৯০০-এর বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অগ্নিসংযোগ, লিনচিং, ধর্ষণ এবং অন্তত ১৮২টি হত্যাকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে ডিপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর হামলাকে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য, জিওপলিটিক্যাল এনালিস্ট এড্যাল নাজারিয়ান, রিচার্চ এন্ড এমপাওয়ারমেন্ট অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক চন্দন সরকার, ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, এমনেস্টি ফ্রিডমের অথর মূসা ইবনে মান্নান, লয়ার সুরাইয়া এম দীন, হোয়াইট হাউজের সাংবাদিক প্রতিনিধি দস্তগীর জাহাঙ্গীর, সাউথ এশিয়ান মাইনরিটিস কালেকটিভের প্রেসিডেন্ট প্রিয়া সাহা ও কমিউনিটি নেতা ডা. দিলীপ নাথ উপস্থিত ছিলেন।
