চার বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আবার উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ চালু হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আয়োজিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন ও রুশ সামরিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে একমত হন।
একই দিনে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, নতুন এই যোগাযোগ ব্যবস্থা তা কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড (ইউকম) এক বিবৃতিতে জানায়, নিয়মিত সামরিক যোগাযোগ বজায় থাকলে দুই পারমাণবিক পরাশক্তির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের ঝুঁকি কমবে। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ এ আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
ইউকমের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সামরিক পর্যায়ে সংলাপ বজায় রাখা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ ৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সর্বোচ্চ ৭০০টি মোতায়েনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমারু বিমান রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই দেশের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর আইনি কাঠামো আর থাকল না।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিকে ‘বাজে’ আখ্যা দেন। তিনি লেখেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের একটি নতুন, উন্নত ও আধুনিক চুক্তি প্রণয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত, যা দীর্ঘমেয়াদি হবে। এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত দেন।
২০২১ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছরে কৃষ্ণ সাগর ও ন্যাটোর আকাশসীমায় দুই দেশের ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের একাধিক মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এই বৈঠককে সেই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
