যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল গত বোম্ব সাইক্লোন/নর’ইস্টার নামে পরিচিত এক বিশাল তুষারঝড়ে বধ করা পড়েছে, যার ফলে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। ব্লিজার্ড পরিস্থিতির কারণে নিউইয়র্ক সিটি, নিউজার্সি, বোস্টন, ম্যাসাচুসেটসসহ বিস্তীর্ণ এলাকা তীব্র তুষারপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্মুখীন হয়েছে, যা জনসাধারণকে ঘরবন্দী করে দিয়েছে এবং রাস্তা–রেল–বিমান পরিবহণকে প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।
সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে নিউইয়র্ক থেকে ম্যাসাচুসেটস পর্যন্ত একটানা তুষারপাত হয়েছে, অংশবিশেষে ১৫ ইঞ্চির বেশি তুষার জমে এবং কিছু জায়গায় ২২–২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতে ঢেকে যায়। ঝোড়ো হাওয়ার ফলে দৃশ্যমানতা কমে যায় এবং সাদা ধোঁয়ায় পথচলা বিপদজনক হয়ে ওঠে।
ব্লিজার্ডের প্রভাবে বিমান চলাচলে বিশাল বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮,০০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে, বিশেষ করে নিউইয়র্ক, বোস্টন, নিউ জার্সি ও ফিলাডেলফিয়ার বড় বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক যাত্রী স্থানীয় বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।
শহর ও রাজ্যগুলো জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং অপরিহার্য কারণে ছাড়া সব ধরনের সড়ক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং রাজ্যগুলোর স্কুল ও অফিসগুলো বন্ধ রয়েছে।
ঝড়ের কারণে ৫৫০,০০০-এর বেশি ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি ও ডেলাওয়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় পাওয়ার গ্রিড তীব্র চাপের মুখে পড়ে সেবা ব্যাহত হয়েছে।
ডেলিভারি পরিষেবাও প্রভাবিত হয়েছে; যেমন ডোরডেশ ও গ্রাবহাব কয়েকটি এলাকায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সেবা বন্ধ করেছে, ফলে বাসিন্দারা সরাসরি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সরকারী কর্মকর্তারা জনসাধারণকে ঘরেই থাকতে অনুরোধ করেছেন এবং জরুরি পরিষেবা কর্মীদের রাস্তা পরিষ্কার ও বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আবহাওয়াবিদরা এই ঝড়কে ক্লাসিক বোম্ব সাইক্লোন/নর’ইস্টার বলে বর্ণনা করেছেন, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
এই মারাত্মক তুষারঝড়ে উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাহত সাধারন জীবন, চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবা দলগুলো দিন-রাত কর্মরত রয়েছে।
