আজ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ-এর প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ ২০২৬ বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজকের দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায়। স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আজ ১৭ বছর পরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন যেখানে বিরোধী দল থাকবে।
গত প্রায় ১৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সংসদ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা থাকলেও, নতুন এই অধিবেশনে বিরোধী দলও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আশা দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দলের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংসদে কার্যকর বিতর্ক, সমালোচনা এবং নীতিনির্ধারণে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর নতুন রাষ্ট্রের সংবিধান, আইন প্রণয়ন এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে এই সংসদ অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই অধিবেশনে অংশ নিয়ে জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি এবং জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংসদ অধিবেশন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা, অধিকার ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।
ড. শফিকুর রহমান — বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা — ইতোমধ্যেই মন্তব্য করেছেন যে তারা সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, “আমরা সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলব এবং আপনাদের অধিকার আদায় করে ছাড়ব,” এবং মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষায় নিজ জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আহম্মদ — বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী — বলেছেন নতুন সংসদকে জনগনের প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে তোলাই চায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে একটি কার্যকর, জনগণমুখী এবং জীবন্ত সংসদ গড়ে উঠবে। এছাড়া তিনি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন এবং দলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে তারা সংবিধান অনুযায়ী সংসদীয় কার্যাবলি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাবে।
দেশবাসীর দৃষ্টি এখন সংসদের দিকে—কারণ এখান থেকেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা।
এই অধিবেশনের বিস্তৃত এজেন্ডা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে উদ্বোধনী ভাষণ প্রদান করবেন, যা সরকারের নীতিমালা ও দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেবে। এই অধিবেশনেই নতুন স্পিকার, সংসদ নেতা ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সার্কিটভাগে, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে, যা সংসদের সময়সূচি ও অন্যান্য কার্যক্রম নির্ধারণ করবে। বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনে শোক প্রস্তাব গৃহীত হবে।
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে এবং ২০২৬ সালের পার্লামেন্ট যাত্রা করবে। জনগণ আশা করছে যে নতুন সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে, জনকল্যাণমূলক নীতি প্রণয়ন করবে এবং দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, এবার সংসদ কার্যকরভাবে কাজ করলে তাদের দৈনন্দিন সমস্যা—যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন—সঠিকভাবে সমাধান হবে। অনেকেই বিশ্বাস করছেন, জনগণের ভোট ও আশা সংসদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হবে।
