যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেলের দাম বাড়লেও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না। তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটির অর্থনৈতিক লাভও বাড়ে।
তবে তার মতে, এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তিনি বলেন, “একটি অশুভ সাম্রাজ্য ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে মধ্যপ্রাচ্য এমনকি পুরো বিশ্বকে ধ্বংস করতে না পারে—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।”
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।
তবে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী তেল উৎপাদন ব্যবস্থা দেশটিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলেছে। তিনি জানান, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল ভান্ডার থেকে তেল সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ভান্ডার থেকে কিছু তেল ব্যবহার করব এবং পরে আবার তা পূরণ করব। এতে বাজারে দাম কমে আসবে।”
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এড়াতে জরুরি ভান্ডার থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল ছাড়ের ঘটনা।
তেলের বাজারে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। বুধবার রাতের লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৩ ডলারে নেমে আসে, যা সাম্প্রতিক উচ্চমূল্যের তুলনায় কম।
ট্রাম্প বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি স্বনির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদন বৈশ্বিক সংকটের সময় দেশটিকে বাড়তি সুবিধা দেয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল ভান্ডারে প্রায় ৪১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। তবে ২০২১ সালে ট্রাম্পের দায়িত্ব শেষ হওয়ার সময় এই ভান্ডারে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল বলে জানা গেছে।
