মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি, ইরানের হুমকি এখন পর্যটন শহরেও

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬

মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি, ইরানের হুমকি এখন পর্যটন শহরেও

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন আর শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই — এর আঁচ এসে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর। রোববার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বব্যাপী একটি জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে এবং কাছের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাঝে মাঝে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিমান যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী বিশ্বের যেকোনো স্থানে মার্কিন স্বার্থ ও মার্কিন নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এই সতর্কতা জারির ঠিক আগে ইরানের সামরিক মুখপাত্র জেনারেল আবোলফাজল শেকারচি শুক্রবার এক ভয়াবহ হুমকি দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতদিন ইরানে হামলা অব্যাহত রাখবে, ততদিন বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন শহরগুলোও তেহরানের নিশানায় থাকবে। ইতোমধ্যে দুবাই ও ইসরায়েলের পর্যটন এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। গত শুক্রবার রাতে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের একটি হেলিপ্যাডেও রকেট হামলা হয়েছে — যে স্থাপনাটি এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বারবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমা হামলা চালিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যা করার পর থেকে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। ইরান দ্রুত পাল্টা আঘাত শুরু করে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে পড়ছে।

এর মধ্যেই রোববার ইরান আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে ইরান “শূন্য সহনশীলতার” নীতি অনুসরণ করবে — পারস্য উপসাগরজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোও আক্রমণের মুখে পড়বে।

ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, যা সোমবার রাত আটটায় শেষ হবে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই দাবিতে তেহরান কোনো ছাড় দেবে না। বরং ট্রাম্প হামলা চালালে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে যে ধাক্কা লাগবে, তার জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী থাকতে হবে।

ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে। আর বিশ্ব উদ্বিগ্ন চোখে তাকিয়ে আছে — পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় কী ঘটতে চলেছে।