সরকারি আংশিক অচলাবস্থার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে এখন রীতিমতো দুর্ভোগের চিত্র। নিরাপত্তা তল্লাশির লাইন এত দীর্ঘ হয়ে পড়েছে যে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে যাত্রীদের। এই সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা যাচ্ছে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে — যেখানে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গিজগিজ করা টার্মিনাল, বিভ্রান্ত পরিবার, আর এমন অপেক্ষা যা নিতান্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা মনে না হয়ে মনে হচ্ছে এক রাজনৈতিক লড়াইয়ে আটকে পড়া। এক যাত্রী ক্ষোভে ফেটে পড়ে বললেন, “তোমাদের রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন এখন আমাদের সমস্যা হয়ে গেছে। আমার এখন ভিতরে থাকার কথা ছিল, এয়ারলাইন লাউঞ্জে — যেটার জন্য আমি মোটা টাকা দিই।”
পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের কর্মী-সংকট এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। অচলাবস্থার কারণে শত শত নিরাপত্তাকর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে ইতোমধ্যে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ অসুস্থতার অজুহাতে কাজে আসছেন না। এক যাত্রী লাইনে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে বললেন, “আমি সত্যিই চাই এই মানুষগুলোকে বেতন দেওয়া শুরু হোক, কারণ এতেই এই লাইনের সমস্যা মিটে যাবে।” আরেকজন যাত্রী জানালেন, অনলাইনে যে অপেক্ষার সময় দেখানো হয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা — লেখা ছিল সতেরো মিনিট, কিন্তু লাইনের পেছনে দাঁড়াতেই বলল দুই ঘণ্টা পনেরো মিনিট।
এই সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে কমিউনিটি সংগঠন। রোববার ‘ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকা’ চালু করেছে ‘অপারেশন রেসকিউ টিএসএ’ — যার আওতায় নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে চারশোরও বেশি বোদেগা এবং ত্রিশ-চল্লিশটি সুপারমার্কেটে নিউইয়র্ক এলাকার প্রায় তিন হাজার বেতনবঞ্চিত নিরাপত্তাকর্মী বাকিতে মুদিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন এবং বেতন হলে সেই ধারের টাকা শোধ করবেন। সংগঠনের মুখপাত্র ফার্নান্দো মাতেও বলেন, “আমরা তাদের একটা ঋণসুবিধা দিতে চাই, যাতে তারা বোদেগায় এসে যা দরকার কিনতে পারেন, পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেন।”
ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামলাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার থেকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিমানবন্দরে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের সীমান্ত বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোমান স্পষ্ট করেছেন, এই কর্মীরা নিরাপত্তা স্ক্যানার চালাবেন না — তারা অন্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন যাতে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা যাত্রী তল্লাশিতে মনোযোগ দিতে পারেন। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সতর্ক করেছেন, অচলাবস্থা আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী বৃহস্পতি থেকে শনিবারের মধ্যে আরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী কাজ ছেড়ে দিতে পারেন — আর তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এদিকে মার্কিন সিনেট সম্প্রতি একটি বিল পাস করেছে যাতে কংগ্রেস সদস্যরাও আর আলাদা নিরাপত্তা লাইনের সুবিধা পাবেন না — সাধারণ যাত্রীদের মতো একই লাইনে দাঁড়াতে হবে তাদেরও। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আগেভাগে এসে বাড়তি সময় হাতে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই — রাজনৈতিক অচলাবস্থার এই মাশুল তারা আর কতদিন দিতে থাকবেন?
