নিউইয়র্ক রাজনীতির মাঠে এবার বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি। স্টেট অ্যাসেম্বলির একাধিক আসনে অন্তত ছয়জন প্রার্থী সরাসরি ভোটের ময়দানে নেমেছেন, যা কেবল প্রবাসী কমিউনিটিতেই নয়, বরং নিউইয়র্কের বৃহত্তর রাজনীতিতেও এক নতুন উত্তেজনা ও আগ্রহ তৈরি করেছে। কুইন্স থেকে ব্রঙ্কস পর্যন্ত বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে বাংলাদেশি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—এবার কমিউনিটি শুধু ভোটার বা সমর্থক নয়, বরং নিজেই নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি অবতীর্ণ।
উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শামসুল হক (ডিস্ট্রিক্ট ৩০), মাহতাব খান (ডিস্ট্রিক্ট ২৪), মেরি জোবাইদা (ডিস্ট্রিক্ট ৩৬), পিয়া রহমান (ডিস্ট্রিক্ট ৩৭), জাকির চৌধুরী (ডিস্ট্রিক্ট ৮৭) এবং জে মোল্লা সানি (ডিস্ট্রিক্ট ৩২)। এরা প্রত্যেকে বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে সক্রিয়ভাবে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা করছেন, সভা করছেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও কমিউনিটির চাওয়া-পাওয়া তুলে ধরছেন।
প্রাইমারি নির্বাচনের জন্য পিটিশন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩০ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর মাহতাব খান ব্যতীত অন্যান্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই পিটিশন জমা দিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ডিস্ট্রিক্ট ৩৬-এর মেরি জোবাইদা প্রায় ২০০০ জন ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন রমজান মাসের মধ্যেও। তিনি তাঁর নির্বাচনী টিম, স্বেচ্ছাসেবক এবং কমিউনিটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যা প্রমাণ করে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পিটিশন জমা দেওয়ার পর কারিগরি দিকগুলো বোর্ড যাচাই করে, এবং যদি সব ঠিক থাকে, প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত প্রাইমারি ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই নির্বাচন বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করছে। আগে যারা ভোটার, কর্মী বা দাতা হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, এবার তাঁরা নিজেই প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন। এর ফলে অ্যালবানির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে অভিবাসী কমিউনিটির চাওয়া-পাওয়া, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং অধিকার আরও দৃঢ়ভাবে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক রাজনীতিতে বাংলাদেশি আমেরিকানদের অবস্থান এখন প্রান্তিক নয়। এটি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান, উচ্চারিত এবং সুসংগঠিত শক্তিতে রূপ নিচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের পিটিশন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার পরই স্পষ্ট হবে, এই আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে কারা ২৩ জুনের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি ব্যালটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে পারবেন। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রমাণ করছে যে, প্রবাসী কমিউনিটির রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে, এবং নিউইয়র্ক রাজনীতিতে তাঁদের প্রভাব বাড়ছে।
