আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি নৌকা ডুবে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ ২৫০ জনের বেশি অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ পুলিশের বরাতে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৯ এপ্রিল ভারত মহাসাগরে একটি বাংলাদেশি জাহাজ ৯ জনকে উদ্ধার করে। পরে তাঁদের প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বেঁচে ফেরা এক রোহিঙ্গা শরণার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, নৌকাটিতে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা, বাকিরা বাংলাদেশি। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কারণে যাত্রাপথে শ্বাসরোধে ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। পরে বড় ঢেউয়ের আঘাতে নৌকাটি ডুবে যায়।
এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ ঘটনাকে দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি সংকটের করুণ পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ ও তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। তাঁদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের সময় দেশত্যাগ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। দীর্ঘদিনেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এর আগে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছিল, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ওই ৯ জনকে উদ্ধার করে।
