দেশের সীমানা পেরিয়ে দূর পরবাসে গেলেও স্বদেশকে পুরোপুরি পেছনে ফেলে আসা যায় না। সঙ্গে চলে আসে ভাষা, সংস্কৃতি, খাবারের স্বাদ, শৈশবের স্মৃতি—আর মাটির প্রতি এক অদ্ভুত টান।
নিউজার্সির প্যাটারসনে বসবাস করেন গোলাম মোহাম্মদ টেপন। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তিনি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের আগে ও পরে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং ফেঞ্চুগঞ্জ অন্ধ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এখন অবসরজীবন কাটাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু অবসর মানেই অলস সময় নয়। দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার নিজের মতো একটি পথ খুঁজে নিয়েছেন তিনি। বাড়ির পেছনের ছোট্ট আঙিনায় সবজি চাষ করেন। প্রবাসের মাটিতে নিজের হাতে দেশের সবজি ফলিয়ে যেন সিলেটের সেই চেনা মাটির কাছেই ফিরে যান।
এবার তাঁর সেই আঙিনাতেই ফলেছে বিশাল আকৃতির এক চালকুমড়া। আকারে এতটাই বড় যে, বাড়ির আঙিনায় সেটি এখন রীতিমতো দর্শনীয় বস্তু। চালকুমড়া আমাদের গ্রামীণ জীবন ও খাদ্যসংস্কৃতির পরিচিত একটি সবজি। পল্লিজীবনের উঠান, রান্নাঘর কিংবা ক্ষেতের মাচায় যার উপস্থিতি বহুদিনের। সেই পরিচিত চালকুমড়াই এবার জন্ম নিয়েছে হাজার মাইল দূরের নিউজার্সির মাটিতে—গোলাম মোহাম্মদ টেপনের নিজের আঙিনায়।
টেপন জানিয়েছেন, তাঁর আঙিনায় ফলানো চালকুমড়াটির ওজন প্রায় ৫০ পাউন্ড হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। প্রবাসে বসে দেশের সবজি ফলানো হয়তো খুব বড় কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু যারা দেশ ছেড়ে দূরদেশে বসবাস করেন, তাদের কাছে এর মধ্যে অন্যরকম এক আবেগ কাজ করে। একসময় যে মাটিতে দাঁড়িয়ে শাকসবজি, ধান, ফলমূল কিংবা গাছপালার সঙ্গে বড় হয়েছেন, সেই স্মৃতিই যেন ফিরে আসে নিজের হাতে ফলানো একটি সবজির মধ্যে।
গোলাম মোহাম্মদ টেপনের নিউজার্সির আঙিনার এই বিশাল চালকুমড়াটি যেন প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও স্বদেশকে একটু ছুঁয়ে থাকার গল্প—সিলেটের মাটির স্মৃতি নিউজার্সির মাটিতে বাঁচিয়ে রাখার এক সুন্দর প্রয়াস।
