বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল গার্ডের মানবাধিকার লঙ্ঘনেররিপোর্ট প্রকাশ

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১১, ২০২৫

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল গার্ডের মানবাধিকার লঙ্ঘনেররিপোর্ট প্রকাশ

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং মিশন বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ড দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত নিপীড়ন চালিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে শুরু করে মানবতাবিরোধী অপরাধ—বহু ঘটনার সঙ্গেই বাহিনীটির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এসব অপরাধের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তথ্যগুলো এসেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে।

স্বাধীন মিশনের সাম্প্রতিক তদন্তে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা নিয়মিতভাবে এমনসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ২০১৪ সালের পর থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে যেসব সময় বিরোধী আন্দোলন দমন করা হয়েছে—তার প্রায় সবগুলোতেই নির্বিচার গ্রেপ্তার, শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, যাদের সরকারবিরোধী বা ভিন্নমতের ধারক মনে করা হতো—মূলত তাদেরই টার্গেট করা হয়েছে। ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মার্তা ভ্যালিনাস বলেন, “যে তথ্য-প্রমাণ আমরা পেয়েছি তা স্পষ্টভাবে দেখায়, ন্যাশনাল গার্ড দীর্ঘমেয়াদে একটি সংগঠিত ও কেন্দ্রীয় দমনপীড়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করেছে।”

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কয়েক দফায় ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন, যা তিনি ‘নার্কো-টেরোরিজম দমন’ নামে অভিহিত করেছেন। মাদুরো দাবি করছেন, ট্রাম্প আসলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান।

জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল গার্ডের ভূমিকা শুধু রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ‘নক নক’ নামে পরিচিত অভিযানে সরকারবিরোধী সন্দেহে সাধারণ মানুষের বাড়িতে হানা দেওয়া হয়। দরিদ্র মহল্লার বহু বাসিন্দাও এ অভিযানের শিকার হন।

এছাড়া, জাতীয় নিরাপত্তার নাম করে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ দমনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে—যা পরিচালিত হয়েছে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে। রিপোর্টে আটককেন্দ্রে যৌন হয়রানি, গ্রেপ্তারের সময় মারধর এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতনের বহু প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।

ভ্যালিনাস বলেন, “আমরা যে নির্যাতন, দুর্ব্যবহার ও যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো যাচাই করেছি—তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এসব ছিল ভিন্নমত দমন ও ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ।”