বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লাতিন আমেরিকার তিন দেশকে ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

সোমবার, জানুয়ারী ৫, ২০২৬

লাতিন আমেরিকার তিন দেশকে ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার আরও তিনটি দেশের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা ও কিউবাকে ঘিরে দেওয়া এসব মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা বর্তমানে ‘অত্যন্ত অসুস্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, বোগোতার সরকার পরিচালিত হচ্ছে ‘একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির দ্বারা’, যিনি কোকেন উৎপাদন ও তা যুক্তরাষ্ট্রে পাচারে আগ্রহী। ট্রাম্প দাবি করেন, পেত্রো আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।

কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘শুনতে তো ভালোই লাগছে।’

এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ বন্ধ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানান, লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ না হলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের সঙ্গে ‘ভৃত্য বা দাসের মতো আচরণ’ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে পেত্রো উল্লেখ করেন, ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ যারা দক্ষিণ আমেরিকার কোনো রাজধানীতে বোমা হামলা চালিয়েছে। তবে প্রতিশোধ নয়, বরং আঞ্চলিক ঐক্যকেই তিনি উত্তরণের পথ হিসেবে তুলে ধরেন।

পেত্রো বলেন, “লাতিন আমেরিকাকে এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হতে হবে, যা বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সংলাপ, বাণিজ্য ও সহযোগিতায় সক্ষম। আমরা শুধু উত্তরের দিকে তাকিয়ে থাকব না, সব দিকেই দৃষ্টি রাখব।”

ভেনেজুয়েলা, কিউবা ও মেক্সিকো নিয়েও কড়া বার্তা
শনিবার ভোরে কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। ওয়াশিংটন দাবি করে, এটি ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ সংক্রান্ত মামলায় একটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য।

ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার ওপর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রয়েছে। যদিও দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ভেনেজুয়েলা ‘আচরণ সংশোধন না করলে’ সেখানে আবারও মার্কিন সেনা পাঠানো হতে পারে।

কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের সময় বহু কিউবান নিহত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কিউবার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই, কারণ দেশটি নিজেই ভেঙে পড়ার পথে। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবার আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া মেক্সিকোকেও সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, দেশটিকে অবশ্যই মাদক পাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমকে ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং জানান, অতীতে একাধিকবার মেক্সিকোতে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ঘটনায় ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘চরম বিপজ্জনক নজির’ সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা