বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারপন্থি সমাবেশে অংশ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান ইরানি কর্তৃপক্ষের

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

রবিবার, জানুয়ারী ১১, ২০২৬

সরকারপন্থি সমাবেশে অংশ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান ইরানি কর্তৃপক্ষের

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারপন্থি কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত এসব সমাবেশের মাধ্যমে চলমান অস্থিরতার বিরুদ্ধে অবস্থান জানানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আগামী ১২ জানুয়ারি দেশজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল। এতে সরকারপন্থি সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তির মদদ রয়েছে। তারা দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সমাবেশগুলোতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এর আগেও তিনি বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়ন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব আন্দোলন রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ইরান সরকার এখন পর্যন্ত হতাহত বা গ্রেপ্তারসংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) দাবি করেছে, দেশটির ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহরের প্রায় ৩০০ স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, এসব ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন এবং দুই হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।