বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন জাতিসংঘ’ গড়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প—অভিযোগ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬

নতুন জাতিসংঘ’ গড়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প—অভিযোগ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। প্রস্তাবিত ওই সংস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বোর্ড অব পিস’। খবর এএফপি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) লুলা বলেন, জাতিসংঘকে সংস্কার ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ার বদলে ট্রাম্প নিজের নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন সংস্থা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষায়, এটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সংস্থায় স্থায়ী সদস্য হতে হলে প্রতিটি দেশকে ১০০ কোটি ডলার করে দিতে হবে। একই সঙ্গে সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্প নিজেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব শর্তের কারণে ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশের নেতা এতে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

খবরে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনার কথা জানান। সে সময় প্রথম ধাপে ১৯টি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন।

লুলা বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক দেশ শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা বিপজ্জনক প্রবণতা। তিনি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং জাতিসংঘের ভূমিকা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান।

এর এক দিন আগে লুলা চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ওই আলোচনায় শি জিনপিং জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

লুলা আরও বলেন, প্রস্তাবিত এই সংস্থা প্রাথমিকভাবে গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এর কার্যক্রম ফিলিস্তিনের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে, যা একসময় জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠার আশঙ্কা তৈরি করছে।

এদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য এতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সংস্থার নিয়মকানুন জাতিসংঘের বিদ্যমান কাঠামো ও আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন ধরনের মেরুকরণ তৈরি হতে পারে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।