শেষ মুহূর্তে সিনেটে সরকারি অর্থায়ন–সংক্রান্ত একটি চুক্তি পাস হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার আংশিকভাবে শাটডাউনে গেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে এই শাটডাউন কার্যকর হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেট অধিকাংশ সরকারি সংস্থার জন্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থায়নে সম্মতি দিলেও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের (ডিএইচএস) জন্য মাত্র দুই সপ্তাহের অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের অর্থায়ন নিয়ে মতবিরোধ থাকায় বিলটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পায়নি।
অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে আপত্তির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে এই অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছান। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর অভিবাসন সংক্রান্ত নীতিতে ডেমোক্র্যাটরা কঠোর অবস্থান নেয়।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সরকারি শাটডাউন। এর আগে ২০২৫ সালে ১ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ৪৩ দিন ধরে শাটডাউন চলেছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ। ওই সময়ে বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা ব্যাহত হয় এবং কয়েক লাখ সরকারি কর্মচারী দীর্ঘ সময় বেতন পাননি। তবে এবারের শাটডাউন দীর্ঘস্থায়ী বা ব্যাপক আকার ধারণ করবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ প্রতিনিধি পরিষদ আগামী সোমবার পুনরায় অধিবেশনে বসার কথা রয়েছে।
এরই মধ্যে হোয়াইট হাউস পরিবহন, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থাকে শাটডাউন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো এক স্মারকে বলা হয়েছে, কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মসূচি অনুযায়ী কাজে উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে শাটডাউন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এতে আশা প্রকাশ করা হয়, এই স্থগিতাদেশ স্বল্পমেয়াদি হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রিপাবলিকানদের এই অর্থায়ন চুক্তির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবিসি জানিয়েছে, ডিএইচএসের জন্য বরাদ্দ দুই সপ্তাহের সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে আইনপ্রণেতারা আলোচনা চালাবেন। ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন, নতুন চুক্তিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে কঠোর নীতিমালা যুক্ত করা হোক।
সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ‘আইসিইকে (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এর জন্য এলোমেলো অভিযান বন্ধ, নজরদারি ও বিচারিক ওয়ারেন্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট রাখতে হবে কোনো গোপন পুলিশ চলবে না।’
এদিকে মিনিয়াপোলিসে অ্যালেক্স প্রেট্টি নামের এক আইসিইউ নার্সের মৃত্যুকে ঘিরে অভিবাসন এজেন্টদের কৌশল নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দল থেকেই তীব্র সমালোচনা উঠেছে। গত সপ্তাহে এক সংঘর্ষের সময় তাঁকে আটক করতে গেলে এক মার্কিন সীমান্তরক্ষী এজেন্টের গুলিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গুলির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।
