কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার প্রভাবে রপ্তানিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশটির মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। এই প্রথম জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির চিপ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেমোরি চিপ উৎপাদক হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর এখন বৈশ্বিক এআই অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
জানুয়ারি মাসে শুধু চিপ রপ্তানি থেকেই আয় হয়েছে ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১০২ শতাংশ বেশি। মাসিক হিসাবে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ রপ্তানির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের ওপর—সাম্প্রতিক প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠান দুটি রেকর্ড মুনাফা করেছে।
এদিকে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় গাড়ি রপ্তানিতেও গতি এসেছে। জানুয়ারিতে এই খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।
তবে রপ্তানির এই সাফল্যের মধ্যেই নতুন চাপ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিউলের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতাটি কোনো আইনি চুক্তি নয়; এটি একটি সমঝোতা স্মারক মাত্র। ফলে এর জন্য সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
সূত্র: এএফপি
