শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এপস্টেইন নথিতে বিল গেটসের নাম, সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার কথা

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬

এপস্টেইন নথিতে বিল গেটসের নাম, সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার কথা

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন প্রকাশিত নথিতে বিল গেটসের নাম উঠে আসায় আবার আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন। এসব তথ্য সামনে আসায় সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস বলেছেন, বিষয়গুলো তাকে দাম্পত্য জীবনের কিছু কষ্টদায়ক সময়ের কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআরের ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা বলেন, এ ধরনের আলোচনা তার জন্য মানসিকভাবে কঠিন। তিনি বলেন, এসব বিষয় প্রকাশ্যে এলে আমার বিবাহিত জীবনের এমন কিছু সময় মনে পড়ে যায়, যেগুলো ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। যেসব প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত, সেগুলোর উত্তর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই দিতে হবে—আমার সাবেক স্বামীসহ।

মেলিন্ডা জানান, দীর্ঘ দাম্পত্যজীবন থেকে বেরিয়ে আসার পর এখন তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন। ২৭ বছরের সংসারজীবনের পর ২০২১ সালে বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে। ওই নথিতে বিল গেটসের নামের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে কোনো সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে বিল গেটসের মুখপাত্র এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নথিতে বিল গেটসের নাম থাকলেও এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা কোনো নারী সরাসরি তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেননি। সংশ্লিষ্ট নথিতে নাম উল্লেখ থাকলেই যে কেউ অপরাধে জড়িত—এমনটি নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশিত নথির মধ্যে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের দুটি ই-মেইলের খসড়া রয়েছে, যেগুলো এপস্টেইন নিজেই লিখেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ই-মেইল কখনো বিল গেটসের কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। ই-মেইলগুলো এপস্টেইনের নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়ে আবার একই অ্যাকাউন্টে ফিরে আসে। এতে বিল গেটসের কোনো ই-মেইল ঠিকানা বা স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

একটি ই-মেইলে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগের ভাষায় লেখা কিছু বক্তব্য রয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর বিল গেটস স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়েছিলেন। অন্য ই-মেইলে ‘প্রিয় বিল’ সম্বোধনে বন্ধুত্বের অবসান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের আগে এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের যোগাযোগ নিয়ে মেলিন্ডা অস্বস্তিতে ছিলেন। পরে ২০১৯ সালে বিল গেটস মাইক্রোসফটের এক কর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন।

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির নতুন নথি প্রকাশের পর মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের মন্তব্য বিল গেটসকে ঘিরে চলমান আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।