যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমে আইনজীবীর নিয়মিত সহায়তা ছাড়াই হাজির হতে হচ্ছে অনেক অভিবাসী শিশুকে। দেশটির সরকার একাকী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অপ্রাপ্তবয়স্কদের আইনি সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচি পুনর্গঠন করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। গত ৩১ জুলাই একাকী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। ওই চুক্তির আওতায় ২০ হাজারের বেশি শিশুকে আইনি সহায়তা দেওয়া হতো।
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের আইনি সহায়তা দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক রক্সানা আভিলা-সিম্পিয়ানু বলেন, আগস্টে লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আদালতে তিনি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী মা ও তাঁর এক বছর বয়সী শিশুর একটি মামলা দেখেছেন। ওই কিশোরীকে নিজের আশ্রয় আবেদনের প্রক্রিয়া সামলানোর পাশাপাশি তাঁর সন্তানের মামলাও মোকাবিলা করতে হচ্ছিল।
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশু ও যাদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা কম, তাদের জন্য বিশেষায়িত আইনি সহায়তা প্রয়োজন। আভিলা-সিম্পিয়ানুর ভাষ্য, আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে একাকী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট বা ওআরআর একাকী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসী শিশুদের বিভিন্ন সেবার তদারকি করে। সংস্থাটি বলেছে, তারা আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। আগস্টে ওআরআর ইউএস কমিটি ফর রিফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টসকে আইনি সেবা দেওয়ার জন্য অর্থায়ন করে। এর মধ্যে অভিবাসন আদালতে প্রতিনিধিত্ব, আইনি পরামর্শ এবং আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে শিশুদের ধারণা দেওয়ার বিষয়গুলো রয়েছে।
অ্যাকাসিয়ার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে ফেডারেল সরকার নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করে। একটি সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, আইনি সেবায় যাতে বড় ধরনের বিরতি না ঘটে, সে জন্য অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে সেবা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে অ্যাকাসিয়া, আইসিএফ ও আওয়ার রেসকিউকে এ ধরনের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ নিয়ে আইনি ও কংগ্রেশনাল পর্যায়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগস্টে একটি ফেডারেল আদালত আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আটকে রাখা অর্থ ছাড়ার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, অ্যাকাসিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য নেওয়ার শর্তে ওই অর্থ আটকে রাখা যাবে না।
অ্যাকাসিয়ার মুখপাত্র বিলাল আসকারিয়ার এএফপিকে বলেন, অ্যাকাসিয়ার সমন্বয়ে পরিচালিত আগের নেটওয়ার্কের তুলনায় ইউএসসিআরআইয়ের আইনি সহায়তা দেওয়ার দল অনেক ছোট। তাঁর মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তার আশায় প্রবেশ করা হাজারো শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও বহিষ্কার কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সময়েই আইনি সহায়তা নিয়ে এই বিতর্ক চলছে। অধিকারকর্মীদের মতে, একাকী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা শিশুদের জন্য যোগ্য আইনজীবীর সহায়তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিবাসন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর তাদের আশ্রয় বা অন্যান্য আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ নির্ভর করতে পারে।
তবে ফেডারেল সরকার বলছে, নতুন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চললেও শিশুদের আইনি সহায়তা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে সরকারি জবাবদিহি কার্যালয় বা গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস ওআরআরের নতুন আইনি সেবা আহ্বানের শর্ত নিয়ে অ্যাকাসিয়ার করা একটি আপত্তি খারিজ করে। এর ফলে নতুন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
