সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের তালিকা প্রকাশের দাবি আইআরজিসির

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬

ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের তালিকা প্রকাশের দাবি আইআরজিসির

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটি বলছে, ৮ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনের অভিযানে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে আইআরজিসির এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, জ্বালানি অবকাঠামো, ড্রোন ঘাঁটি, যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, আকাশ ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণ রাডার, আগাম সতর্কীকরণ রাডার, দীর্ঘপাল্লার রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষা রাডার।

তালিকায় আরও দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, লজিস্টিক ও সহায়তা কেন্দ্র, জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের গুদাম এবং ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া এমকিউ-৯ ড্রোন ঘাঁটি, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকরণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার, বিমানবাহী রণতরির জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম, পি-৮ নজরদারি বিমানের ঘাঁটি, হাইমার্স ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্ম, যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা কমপ্লেক্স, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, জ্বালানি জেটি এবং বিমান উড্ডয়ন ও পার্কিং র‌্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিমান সক্ষমতার ক্ষেত্রে আইআরজিসির দাবি, হামলায় মাটিতে থাকা ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি নজরদারি ও অভিযান পরিচালনাকারী ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ নজরদারি বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান, আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, চারটি ভারী হেলিকপ্টার এবং গুদামে থাকা ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, এসব হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও ক্ষয়ক্ষতির এসব দাবি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।