বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

টরন্টোয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাছুমুর রহমান বাপ্পী ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নির্বাচিত

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

টরন্টোয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাছুমুর রহমান বাপ্পী ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নির্বাচিত

কানাডার টরন্টোর বাঙালি কমিউনিটির পরিচিত মুখ মাছুমুর রহমান বাপ্পী আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে ওঠা বাপ্পী সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ এলাকার সন্তান। বর্তমানে তিনি কানাডায় বসবাস করলেও নিজের শেকড় ও কমিউনিটির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

শৈশবের স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে—বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের অংশ হতে পারা তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে হসপিটালিটি খাতে কাজের অভিজ্ঞতা তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে কাজে লাগিয়ে আসছেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচিতে আবেদন করেন। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে। কানাডা থেকে প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। শুধু টরন্টো শহর থেকেই আবেদন ছিল প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার, যেখানে মাত্র প্রায় ৩ হাজার জনকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

অর্থাৎ, প্রতিযোগিতা ছিল অত্যন্ত কঠিন—প্রতি প্রায় ৮০ জনের মধ্যে মাত্র একজন এই সুযোগ পান।

বাপ্পী রহমান জানান, তাঁর স্বেচ্ছাসেবী জীবন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে স্কাউট আন্দোলনের মাধ্যমে। পরে তিনি রোটারি ক্লাব ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পোলিও টিকাদান কর্মসূচি এবং ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। আবেদন, সাক্ষাৎকার, যাচাই-বাছাই এবং বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে। ধৈর্য, পরিশ্রম এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি।”

বিশ্বকাপ চলাকালীন তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্বের শীর্ষ ফুটবল তারকাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে কাছ থেকে দেখার সম্ভাবনা তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করছে।

সিলেটের মেন্দিবাগ থেকে শুরু হওয়া এক তরুণের এই স্বেচ্ছাসেবী পথচলা আজ পৌঁছে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের মঞ্চে। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও এক গর্বের অধ্যায়।