স্বাস্থ্যসেবার মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচকগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের বার্ষিক “বেস্ট হসপিটালস” তালিকা। এবার এ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে গ্রেটার নিউইয়র্ক এলাকার তিনটি প্রতিষ্ঠান। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হসপিটালস, মাউন্ট সিনাই হসপিটাল, এবং নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান হসপিটাল-কলাম্বিয়া অ্যান্ড কর্নেল। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই তালিকায় সারা দেশের সেরা বিশটি হাসপাতালের “অনার রোল”-এ ঠাঁই পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই তিনটিই আবার যৌথভাবে নিউইয়র্ক সিটি মেট্রো অঞ্চলের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
এই র্যাঙ্কিং তৈরিতে ইউএস নিউজ প্রায় সাড়ে চার হাজার হাসপাতালের ডেটা পর্যালোচনা করেছে। চৌদ্দটি প্রাপ্তবয়স্ক বিশেষায়িত বিভাগ এবং তেইশটি প্রক্রিয়া ও রোগের ভিত্তিতে, আশি কোটিরও বেশি রোগীর চিকিৎসা রেকর্ড বিশ্লেষণ করে। ঝুঁকি-সমন্বিত মৃত্যুহার, প্রতিরোধযোগ্য জটিলতা, এবং রোগীর অভিজ্ঞতার মতো মানদণ্ডে উৎকর্ষ দেখিয়ে মাত্র ষোলো শতাংশ হাসপাতাল এবারের তালিকায় “বেস্ট হসপিটালস” স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল সাফল্য এসেছে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের ঝুলিতে। যারা দেশজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রথম-স্থান ও শীর্ষ-দশ বিশেষায়িত বিভাগের রেকর্ড ধরে রেখেছে। তাদের তেরোটি র্যাঙ্কড ক্লিনিক্যাল বিভাগের মধ্যে বারোটিই শীর্ষ দশে জায়গা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টানা পঞ্চম বছরের মতো স্নায়ুবিজ্ঞান ও নিউরোসার্জারিতে এবং টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কার্ডিওলজি, হৃদরোগ ও ভাস্কুলার সার্জারিতে দেশের এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে। এনওয়াইইউ গ্রসম্যান স্কুল অব মেডিসিনের ডিন ও এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথের প্রধান নির্বাহী ড. অ্যালেক সি. কিমেলম্যান বলেন, তাদের প্রতিভাবান ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসাদল প্রতিনিয়ত এমন খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর মনোযোগ দিয়ে কাজ করে, যা সরাসরি রোগীর ফলাফল ও অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে। এই স্বীকৃতি এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের ম্যানহাটনের টিশ হসপিটাল, কিমেল প্যাভিলিয়ন, অর্থোপেডিক হসপিটাল, পাশাপাশি লং আইল্যান্ড ও ব্রুকলিনের শাখা হাসপাতালগুলো পর্যন্তও বিস্তৃত।
নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান হসপিটাল-কলাম্বিয়া অ্যান্ড কর্নেল এবার নিউইয়র্কের একমাত্র হাসপাতাল হিসেবে চৌদ্দটি বিশেষায়িত বিভাগের সবগুলোতেই শীর্ষ বিশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এই প্রথমবারের মতো চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগও এই তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুবাদে। প্রতিষ্ঠানটি টানা তেইশ বছর ধরে ইউএস নিউজের তালিকায় নিউইয়র্কের এক নম্বর হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে। হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ব্রায়ান জি. ডনলি বলেন, এই অর্জন তাদের চিকিৎসক, নার্স ও পুরো দলের অসাধারণ নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সহানুভূতির প্রতিফলন। যারা প্রতিদিন রোগী ও পরিবারদের সর্বোচ্চ মানের সেবা দিয়ে চলেছেন।
মাউন্ট সিনাই হসপিটাল দুটি বিভাগে — কার্ডিওলজি, হৃদরোগ ও ভাস্কুলার সার্জারি এবং জেরিয়াট্রিক্সে। শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে, পাশাপাশি ক্যান্সার চিকিৎসায় শীর্ষ দশেও রয়েছে। মাউন্ট সিনাই হসপিটালের প্রেসিডেন্ট ও মাউন্ট সিনাই হেলথ সিস্টেমের প্রধান ক্লিনিক্যাল কর্মকর্তা ড. ডেভিড এল. রাইখ বলেন, এই স্বীকৃতি বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা এমন একটি চিকিৎসক-নার্স দলের প্রতিফলন, যারা রোগীর পটভূমি বা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নিরাপত্তা, মান ও অভিজ্ঞতাকে সবকিছুর কেন্দ্রে রাখেন। তিনটি প্রতিষ্ঠানই একই সঙ্গে “কমিউনিটি অ্যাক্সেসের জন্য সেরা আঞ্চলিক হাসপাতাল” হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। অর্থাৎ অপর্যাপ্ত সেবা পাওয়া কমিউনিটিগুলোকে উচ্চমানের চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির জন্যও তারা প্রশংসিত হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে সেরা বিশের বাকি তালিকায় রয়েছে বোস্টনের ব্রিগহ্যাম অ্যান্ড উইমেন্স হসপিটাল ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল, লস অ্যাঞ্জেলেসের সিডার্স-সিনাই মেডিকেল সেন্টার ও ইউসিএলএ রোনাল্ড রিগ্যান মেডিকেল সেন্টার, ক্লিভল্যান্ডের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, ফিলাডেলফিয়ার হসপিটাল অব দ্য ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া, হিউস্টন মেথডিস্ট হসপিটাল, বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স হসপিটাল, অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডা ও মিনেসোটার মায়ো ক্লিনিকের তিনটি শাখা, শিকাগোর রাশ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার ও নর্থওয়েস্টার্ন মেমোরিয়াল হসপিটাল, পালো অল্টোর স্ট্যানফোর্ড হেলথ কেয়ার, সান দিয়েগো ও সান ফ্রান্সিসকোর ইউসি হেলথ সিস্টেম, এবং অ্যান আর্বরের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান হেলথ।
ইউএস নিউজের স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বেন হার্ডার বলেন, প্রায় চার দশক ধরে ইউএস নিউজ পরিবারগুলোকে ও তাদের চিকিৎসকদের জটিল স্বাস্থ্যসেবা সিদ্ধান্তের পথ দেখাতে সাহায্য করে আসছে। আর তাদের পারফরম্যান্স-ভিত্তিক মানদণ্ড আমেরিকান পরিবারগুলোকে আস্থার সঙ্গে উচ্চমানের সেবা খুঁজে নিতে সহায়তা করে, প্রায়ই নিজেদের কমিউনিটির মধ্যেই।
নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারের জন্য বাস্তব সিদ্ধান্তের একটি নির্ভরযোগ্য নির্দেশিকা। জটিল হৃদরোগ, স্নায়বিক জটিলতা বা প্রবীণদের যত্নের মতো বিষয়ে যখন পরিবার কোনো হাসপাতাল বেছে নেওয়ার প্রশ্নে দ্বিধায় পড়ে, তখন এই ধরনের স্বাধীন, তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে এমন একটি কমিউনিটির জন্য, যাদের অনেকেই এখনো মার্কিন স্বাস্থ্যব্যবস্থার জটিল কাঠামো বুঝে উঠতে সংগ্রাম করেন।
