বুধবার, ২০ মে ২০২৬

স্বাক্ষর ত্রুটিতে বাতিল হতে পারে এইচ-১বি ও গ্রিন কার্ড আবেদন

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২৬

স্বাক্ষর ত্রুটিতে বাতিল হতে পারে এইচ-১বি ও গ্রিন কার্ড আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন করে কঠোর নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিবাসন আবেদনপত্রে স্বাক্ষর সংক্রান্ত সামান্য ত্রুটিও এখন বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে, এমনকি আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১০ জুলাই থেকে কোনো আবেদন ফর্মে বৈধ স্বাক্ষর না থাকলে সেটি সরাসরি গ্রহণ পর্যায়ে বাতিল করা যাবে বা পরবর্তী যাচাই পর্যায়ে নাকচ করা যাবে। একই সঙ্গে এমন ক্ষেত্রে আবেদন ফি আর ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না, ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়বে।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া বা অননুমোদিত স্বাক্ষরের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি স্বাক্ষর, কপি-পেস্ট করা ছবি বা অনুমোদনহীন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আবেদন যাচাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করছে।

নতুন নীতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হাতে লেখা স্বাক্ষর বা মূল স্বাক্ষরের পরিষ্কার স্ক্যান গ্রহণযোগ্য হবে। তবে টাইপ করা নাম, ডিজিটালভাবে তৈরি স্বাক্ষর, সিগনেচার স্ট্যাম্প কিংবা অনুমোদনহীন ব্যক্তির দেওয়া স্বাক্ষর সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে এইচ-১বি ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ায়। কারণ এসব আবেদন সাধারণত বড় প্রতিষ্ঠান ও আইনজীবীদের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে জমা দেওয়া হয়, যেখানে ছোট কোনো স্বাক্ষরজনিত ভুলও বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

আরও বলা হয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পরেও যদি কোনো পর্যায়ে স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে ইউএসসিআইএস পুরো আবেদন বাতিল করতে পারবে। এমন সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বিবেচনা করা হবে, যার ফলে আবেদন ফি হারানো ছাড়াও বৈধ কাজের অনুমতি বা অভিবাসন স্ট্যাটাস ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নিয়মের কারণে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও আবেদনকারীদের এখন আরও সতর্ক হতে হবে। প্রতিটি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত করা, মূল কাগজপত্র সংরক্ষণ করা এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বাড়তি যাচাই ব্যবস্থা রাখা জরুরি হয়ে উঠবে।

নতুন এই নিয়ম নিয়ে জনমত গ্রহণ চলবে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত, তবে একই দিন থেকেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আবেদনকারী ও নিয়োগদাতাদের জন্য প্রস্তুতির সময় খুবই সীমিত।