যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক সিটির মেয়র নির্বাচনে ৩৭টি বিতর্কিত ব্যালট গণনার পর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। নতুন অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবির চেয়ে ১২ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন মুহিত মাহমুদ। তবে আবাসিক যোগ্যতা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিক অন ডেট্রয়েটের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স ৩৭টি বিতর্কিত ব্যালট গণনা ও যাচাই-বাছাই শেষে নতুন অনানুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করে। এতে মুহিত মাহমুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। অন্যদিকে বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭ ভোট।
২০২৫ সালের নভেম্বরের নির্বাচনের পরদিন হ্যামট্রাম্যাক সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে খোলা খামের ভেতর ব্যালটগুলো পাওয়া যায়। পরে গত সেপ্টেম্বরে একজন বিচারক ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেন। শুক্রবার সেগুলোর পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে নতুন ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
তবে ফলাফলে পরিবর্তন এলেও নতুন ভোটের হিসাব এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা যাচ্ছে না। মুহিত মাহমুদ হ্যামট্রাম্যাকে বসবাস করেন না, এমন অভিযোগে করা একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২২ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন ফলাফল ঘোষণার পর সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ উদ্যাপন করেন মুহিত মাহমুদ। এ সময় তিনি হ্যামট্রাম্যাকের বাসিন্দা ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মুহিত মাহমুদ বলেন, ‘আমরা জানি না, কেন তাঁরা আগে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না, যাতে আমাদের এসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হতো। আমি হ্যামট্রাম্যাক শহর, এখানকার বাসিন্দা ও সব ভোটারের প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনাদের ধন্যবাদ।’
অন্যদিকে অ্যাডাম আলহারবি জানিয়েছেন, তিনি পরাজয় মেনে নেবেন না। নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। গণনার আগে ব্যালটগুলোর অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আলহারবির আইনজীবী নাবিহ এইচ. আয়াদ বিষয়টি তদন্তের জন্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আয়াদ বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। আপনারা যথাযথভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখুন। দেখা যাক, ওই ৩৭টি ব্যালটে কার কার ডিএনএ পাওয়া যায়। ব্যালটগুলো খোলা অবস্থায় কেন ছিল? কে ওই ৩৭টি ব্যালট খুলেছিল? ডিএনএ কোথায়, আঙুলের ছাপ কোথায়? আমরা ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে পুরো বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
সব মিলিয়ে হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। নতুন অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে মুহিত মাহমুদ এগিয়ে থাকলেও আবাসিক যোগ্যতা নিয়ে মামলার নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনী ফলাফলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।
