তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক (অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। প্রায় ৬০ বছর ধরে জোটটির সদস্য থাকার পর এ সিদ্ধান্ত নিল দেশটি। আগামী ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বিবেচনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে পরিবর্তনের কারণে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
আমিরাতের এই সিদ্ধান্তকে ওপেক এবং এর কার্যত নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এলো, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
আঞ্চলিক ব্যবসার কেন্দ্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নিল, যখন তারা অভিযোগ করছে, চলমান সংঘাতে ইরানের হামলা থেকে তাদের রক্ষায় অন্য আরব দেশগুলোর ভূমিকা যথেষ্ট নয়।
১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাবশালী একটি জোট, যা বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ঘোষণার পর ওপেকের বর্তমান সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১১-তে। দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ভেনেজুয়েলা, আলজেরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, গ্যাবন, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।
