শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

দুই দশক পর ভারতীয় আম আমদানিতে জাপানের নিষেধাজ্ঞা

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬

দুই দশক পর ভারতীয় আম আমদানিতে জাপানের নিষেধাজ্ঞা

প্রায় দুই দশক পর আবারও জাপান ভারত থেকে আম আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ক্ষতিকর পোকা দমনের প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ভারতের উচ্চমূল্যের আম রপ্তানি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।

বিশেষ করে আলফোনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও ভাঙ্গানাপাল্লী জাতের আমের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

চলতি বছরের শুরুতে ভারতের একটি শোধন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জাপানি সংগনিরোধ কর্মকর্তারা। পরিদর্শনের সময় পোকা দমন ব্যবস্থায় গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপরই ভারতীয় আম আমদানির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয় জাপান।

এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ভারতের উচ্চমূল্যের আম রপ্তানি বাজার বড় ধরনের চাপে পড়েছে। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে দেশটির সামগ্রিক আম বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

ফলমাছিসহ বিভিন্ন আক্রমণাত্মক পোকামাকড়কে কৃষির জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে জাপান। এ কারণে দেশটিতে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কার্যকর রয়েছে।

গত মার্চে ভারতের উত্তর প্রদেশের রহমানপুরে অবস্থিত একটি তাপ ও আর্দ্রতাভিত্তিক শোধনকেন্দ্র পরিদর্শন করে জাপানি প্রতিনিধি দল। এই পদ্ধতিতে রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই নিয়ন্ত্রিত তাপ ও আর্দ্রতার মাধ্যমে আমের ভেতরে থাকা পোকা ও কীড়া ধ্বংস করা হয়। জাপানে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক শর্ত।

তবে পরিদর্শনের সময় কেন্দ্রটির ধোঁয়াকরণ ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় একাধিক ঘাটতি ধরা পড়ে। পরে ইয়োকোহামা উদ্ভিদ সুরক্ষা সংস্থা জানায়, ২০২৬ সালের ২৫ মার্চের পর দেওয়া সনদধারী কোনো ভারতীয় আমের চালান গ্রহণ করা হবে না।

যদিও জাপান ভারতের সবচেয়ে বড় আম রপ্তানি বাজার নয়, তবে এটি ছিল দেশটির অন্যতম লাভজনক ও উচ্চমূল্যের বাজার। ফলে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ভারতীয় আমচাষি ও রপ্তানিকারকদের জন্য বড় আর্থিক ধাক্কা হয়ে এসেছে।