শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাকরির স্বর্গ দুবাইয়ে ছাঁটাইয়ের শঙ্কা

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাকরির স্বর্গ দুবাইয়ে ছাঁটাইয়ের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের শ্রমবাজারে। পর্যটন ও বিমান পরিবহননির্ভর অর্থনীতিতে মন্দার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে, নতুন নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে এবং কোথাও কোথাও বেতনও কমানো হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদেশি শ্রমিকেরা।

সম্প্রতি দুবাইয়ের তীব্র গরমের মধ্যে কাজের সন্ধানে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিলেন ফিলিপিনো গৃহকর্মী জয় ভিভান্দা। গত মার্চে তাঁর নিয়োগকর্তা একটি রুশ পরিবার হঠাৎ দুবাই ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি বেকার। চার মাস ধরে কাজ খুঁজেও কোনো চাকরি পাননি।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার লাখো মানুষের কাছে কর্মসংস্থানের অন্যতম গন্তব্য ছিল দুবাই। শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ বাসিন্দাই বিদেশি নাগরিক। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে, বিশেষ করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় পর্যটন ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে অনেক ধনী বিদেশি শহর ছেড়েছেন এবং স্বল্প ও মধ্যম আয়ের অভিবাসী কর্মীরা চাকরি হারানো বা আয় কমে যাওয়ার মুখে পড়েছেন।

যদিও দেশটির সরকার অর্থনৈতিক ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, অর্থনীতি ও পর্যটনমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন তৌক আল-মাররি পরিস্থিতিকে সাময়িক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, দুবাই অতীতেও নানা সংকট মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মী। ভারতীয় হিসাবরক্ষক মুজিব রহমান বলেন, ব্যবসায় নগদ অর্থের সংকট দেখা দেওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর সহকর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ স্থগিত রাখায় নতুন চাকরি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তবু অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। জনবল নিয়োগবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ম্যানপাওয়ারগ্রুপের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি চারজন নিয়োগকর্তার একজন ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরি টিকে থাকলেও বেতন কমানো হয়েছে।

মিশরীয় বিক্রয়কর্মী জেকরা এলসা জানান, পর্যটক কমে যাওয়ায় তাঁর বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এখন তিনি কেবল কমিশনভিত্তিক আয়ে কাজ করছেন।

দুবাই ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খালিদ জসিম মোহামেদ বিন কালবানের মতে, বর্তমান মন্দা সাময়িক। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই বিশ্বের অন্যতম বড় রেমিট্যান্স উৎস হওয়ায় এই সংকটের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন দেশের লাখো পরিবারের ওপর পড়তে পারে।

ভারতীয় কর্মী ভেনকাট ও ফিলিপিনো গৃহকর্মী জয় ভিভান্দাসহ অনেক অভিবাসী শ্রমিক বলছেন, আয় কমে যাওয়ায় তাঁরা নিজ দেশে অর্থ পাঠাতে পারছেন না। এতে তাঁদের সন্তানের শিক্ষা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন ক্যামেরুনের ওয়েল্ডার ইয়ানিক ওবিও। তাঁর ভাষায়, “আমি প্রতিদিন কাজে যাই, কিন্তু করার মতো কোনো কাজই থাকে না।”

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।