ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরান সফরে যাচ্ছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর তাঁর এ সফরের ঘোষণা এসেছে। রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে আইএনএ জানিয়েছে, তেহরান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করবেন। এসব চুক্তির লক্ষ্য দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
চলতি বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে আলী আল-জাইদির প্রথম ইরান সফর। এর আগে তিনি এক সপ্তাহের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সফরে মার্কিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।
তবে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে বাগদাদকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে সতর্ক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা বাড়ায় সেই ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা আলী আল-জাইদি ইরাকের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় হামলায় অভিযুক্ত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করারও অঙ্গীকার করেছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ইরানের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর প্রভাব ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছেছে। অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনা, আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি এবং নির্বাসিত ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
